ভবিষ্যতের সিনেমা কি এআই বানাবে?

ভবিষ্যতের সিনেমা কি এআই বানাবে? 

সোরা মডেলের বিস্ময় 



প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সর্বশেষ সংযোজন হলো ওপেনএআই-এর (OpenAI) 'সোরা' (Sora) মডেল। চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) দিয়ে টেক্সট তৈরিতে বিপ্লব আনার পর, ওপেনএআই সব ভিডিও দুনিয়ায় পা রেখেছে। 
সোরা হলো এমন একটি যুগান্তকারী এআই মডেল, যা শুধুমাত্র টেক্সট বা লিখিত নির্দেশনা থেকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং কল্পনাপ্রবণ ভিডিও তৈরি করতে পারে। 
কয়েক লাইনের একটি বর্ণনা থেকেই এটি এক মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ, হাই-ডেফিনিশন ভিডিও ক্লিপ তৈরি করতে সক্ষম, যা দেখে বাস্তব এবং কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। সোরা মডেলটি কেবল সাধারণ ভিডিও তৈরি করে না, এটি ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশনার গভীরে গিয়ে বিষয়বস্তু, চরিত্র এবং পরিবেশের ভৌত জগতকে বুঝতে পারে। 
যেমন, আপনি যদি বর্ণনা দেন "জাপানের টোকিও শহরের রাস্তায় একজন স্টাইলিশ নারী হাঁটছে, তার চারপাশের নিয়ন আলো ভেজা রাস্তায় প্রতিফলিত হচ্ছে," সোরা কেবল সেই দৃশ্যটিই তৈরি করবে না, বরং আলোর প্রতিফলন, চরিত্রের হাঁটার ভঙ্গি এবং পরিবেশের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকেও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলবে। 
এই মডেলটি একটি স্থির ছবি থেকেও ভিডিও তৈরি করতে পারে কিংবা বিদ্যমান কোনো ভিডিওর শূন্যস্থান পূরণ করতেও সক্ষম। 
 সোরার এই ক্ষমতা চলচ্চিত্র নির্মাণ, বিজ্ঞাপন, গেমিং এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। ছোট চলচ্চিত্র নির্মাতা বা কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এখন বিশাল বাজেট বা প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ছাড়াই তাদের কল্পনাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। তবে এর পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও তৈরি হচ্ছে।
ডিপফেক (Deepfake) প্রযুক্তি এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস শিল্পী বা অ্যানিমেটরদের মতো পেশার ওপর এর প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে সোরা মডেলটি নির্বাচিত কিছু গবেষক এবং নির্মাতাদের ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যাতে এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা যায়। 
সব মিলিয়ে, সোরা নিছক একটি প্রযুক্তি নয়, এটি সৃজনশীলতা এবং বাস্তবতার সংজ্ঞাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এই প্রযুক্তি মানব সভ্যতার জন্য আশীর্বাদ হবে নাকি নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তা সময়ই বলে দেবে।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Ads2

সাম্প্রতিক পোস্ট